Land Hisab

নির্ভুল ও আধুনিক জমির ক্যালকুলেটর

ফলাফল:

POWERED BY INAYA COMPUTER
● জমির দাম হিসাব করুন
মোট দাম:
0 টাকা
(আপনার নির্বাচিত এলাকার মান অনুযায়ী)
POWERED BY INAYA COMPUTER

জমি পরিমাপের এ টু জেড: পূর্ণাঙ্গ গাইড

জমি কেনা-বেচা বা পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ-বন্টন—আমাদের জীবনে জমির হিসাব বা পরিমাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অনেকেই জমি মাপার সঠিক পদ্ধতি বা এককগুলো (যেমন- শতক, কাঠা, বিঘা) সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন না। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জমি মাপার সকল খুঁটিনাটি বিষয় খুব সহজ ভাষায় আলোচনা করবো।

১. জমি মাপার প্রাথমিক ধারণা

জমি মাপার জন্য মূলত জ্যামিতিক সূত্র ব্যবহার করা হয়। একটি জমি আয়তাকার, বর্গাকার কিংবা ত্রিভুজাকার হতে পারে। আমিন বা সার্ভেয়াররা সাধারণত ফিতা বা চেইন ব্যবহার করে জমির দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ মেপে থাকেন।

২. জমির এককসমূহ (Units of Land Measurement)

আমাদের দেশে এলাকাভেদে জমির পরিমাপের একক ভিন্ন হতে পারে, তবে সরকারিভাবে এবং দলিলে কিছু নির্দিষ্ট একক ব্যবহার করা হয়:

৩. নিজের জমি নিজেই মাপবেন যেভাবে

আপনি যদি খুব সাধারণ একটি আয়তাকার (চারকোনা) জমি মাপতে চান, তবে নিচের সহজ সূত্রটি ব্যবহার করতে পারেন:

সূত্র: জমির দৈর্ঘ্য (ফুট) × জমির প্রস্থ (ফুট) = মোট বর্গফুট (Square Feet)
এরপর মোট বর্গফুটকে ৪৩৫.৬ দিয়ে ভাগ করলে শতক পাওয়া যাবে।

উদাহরণ: জমির দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট এবং প্রস্থ ৩০ ফুট হলে, ক্ষেত্রফল ১২০০ বর্গফুট।
অতএব, জমির পরিমাণ = ১২০০ ÷ ৪৩৫.৬ = ২.৭৫ শতক।

জমির মিউটেশন বা নামজারি: কেন জরুরি?

জমি কেনার পর রেজিস্ট্রি অফিস থেকে দলিল তো পেলেন, কিন্তু সেটাই কি শেষ? একদম না। জমির প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করতে "নামজারি" বা "মিউটেশন" (Mutation) করা অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই দলিল থাকাকেই যথেষ্ট মনে করেন এবং নামজারিতে অবহেলা করেন, যা ভবিষ্যতে বড় আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।

নামজারি বা মিউটেশন কী?

সহজ কথায়, সরকারি রেকর্ডে আগের মালিকের নাম বাদ দিয়ে বর্তমান মালিকের (আপনার) নাম অন্তর্ভুক্ত করাকেই নামজারি বা মিউটেশন বলে। এর মাধ্যমে আপনি সরকারের খাতায় জমির মালিক হিসেবে স্বীকৃতি পান এবং ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা আপনার নামে পরিশোধ করতে পারেন।

নামজারি কেন করবেন?

বিনিয়োগের জন্য জমি নাকি ফ্ল্যাট – কোনটি সেরা?

বিনিয়োগের কথা ভাবলে আমাদের দেশে জমি (Land) এবং ফ্ল্যাট (Flat) – এই দুটিই সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম। কিন্তু কোনটি আপনার জন্য লাভজনক হবে? আসুন একটি তুলনামূলক আলোচনা দেখা যাক।

জমিতে বিনিয়োগের সুবিধা

ফ্ল্যাটে বিনিয়োগের সুবিধা ও অসুবিধা

ফ্ল্যাট কিনে আপনি সাথে সাথেই বসবাস শুরু করতে পারেন অথবা ভাড়া দিয়ে আয় করতে পারেন। ব্যাংক লোন পাওয়াও সহজ। তবে মনে রাখবেন, ফ্ল্যাটের দাম জমির মতো বাড়ে না, বরং সময়ের সাথে বিল্ডিং পুরনো হলে এর দাম কমতে পারে এবং মাসিক সার্ভিস চার্জ দিতে হয়।

সিদ্ধান্ত: দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য জমি সেরা। আর থাকার জন্য বা মাসিক ভাড়ার জন্য ফ্ল্যাট ভালো পছন্দ।

মোবাইল অ্যাপ দিয়ে কি জমি মাপা সম্ভব?

প্রযুক্তির যুগে এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করেই জমির পরিমাপ করা যাচ্ছে। গুগল প্লে স্টোরে এমন অনেক অ্যাপ আছে যা দিয়ে আপনি জিপিএস (GPS) ব্যবহার করে জমির আয়তন বের করতে পারেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই পরিমাপ কি দলিল বা আইনি কাজের জন্য নির্ভরযোগ্য?

মোবাইল অ্যাপ কীভাবে কাজ করে?

অধিকাংশ জমি মাপার অ্যাপ জিপিএস প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। আপনি জমির চারদিকের সীমানা দিয়ে হেঁটে আসলে অ্যাপটি স্যাটেলাইট লোকেশন ট্র্যাক করে একটি আনুমানিক ক্ষেত্রফল (Area) তৈরি করে।

নির্ভুলতা বা সঠিকতা (Accuracy)

সতর্কতা: জমি কেনা-বেচা বা সীমানা প্রাচীর দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য কখনোই শুধুমাত্র মোবাইল অ্যাপের ওপর নির্ভর করবেন না। অবশ্যই ফিতা বা ডিজিটাল সার্ভে মেশিনের সাহায্য নিন।

নিজের জমি নিজেই মাপুন: জমি পরিমাপের সহজ জ্যামিতিক পদ্ধতি

জমি আমাদের জীবনের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। জমি কেনা-বেচা বা পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ-বন্টনের সময় সঠিক পরিমাপ জানা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণত আমরা জমি মাপার জন্য আমিন বা সার্ভেয়ারের ওপর নির্ভর করি। কিন্তু আপনি যদি সাধারণ জ্যামিতিক সূত্রগুলো জানেন, তবে আপনি নিজেই প্রাথমিকভাবে আপনার জমির পরিমাণ যাচাই করে নিতে পারবেন। এতে প্রতারিত হওয়ার সুযোগ কমে যায়। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা শিখব কিভাবে খুব সহজে ফিতা ব্যবহার করে আয়তাকার জমি মাপা যায়।

জমি মাপার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম

সহজ পদ্ধতিতে জমি মাপার নিয়ম

বেশিরভাগ জমি সাধারণত আয়তাকার (Rectangular) বা চারকোনা হয়ে থাকে। অর্থাৎ যার চারটি বাহু আছে এবং বিপরীত বাহুগুলো প্রায় সমান। এই ধরনের জমি মাপা সবচেয়ে সহজ।

ধাপ ১: দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ নির্ণয়

প্রথমে জমির চারপাশের সীমানা ঠিক করুন। এরপর ফিতা দিয়ে জমির লম্বালম্বি দুটি দিক মাপুন। মনে করি, জমির একপাশের দৈর্ঘ্য ৮০ ফুট এবং অন্যপাশের দৈর্ঘ্য ৮২ ফুট। তাহলে গড় দৈর্ঘ্য হবে: (৮০ + ৮২) ÷ ২ = ৮১ ফুট।
একইভাবে জমির প্রস্থ মাপুন। মনে করি, একপাশের প্রস্থ ৪০ ফুট এবং অন্যপাশের প্রস্থ ৪২ ফুট। তাহলে গড় প্রস্থ হবে: (৪০ + ৪২) ÷ ২ = ৪১ ফুট।

ধাপ ২: ক্ষেত্রফল বা বর্গফুট বের করা

এখন আমাদের মোট ক্ষেত্রফল বের করতে হবে। সূত্রটি হলো: ক্ষেত্রফল = দৈর্ঘ্য × প্রস্থ

আমাদের উদাহরণ অনুযায়ী: ক্ষেত্রফল = ৮১ (ফুট) × ৪১ (ফুট) = ৩,৩২১ বর্গফুট (Square Feet)।

ধাপ ৩: শতক বা কাঠায় রূপান্তর

আমরা বর্গফুট পেয়েছি, কিন্তু বাংলাদেশে বা ভারতে জমি সাধারণত 'শতক' (Decimal) বা 'কাঠা'-য় হিসাব করা হয়।

শতক বের করার নিয়ম: মোট বর্গফুটকে ৪৩৫.৬ দিয়ে ভাগ করতে হবে।
জমির পরিমাণ (শতক) = ৩,৩২১ ÷ ৪৩৫.৬ = ৭.৬২ শতক (প্রায়)।
কাঠা বের করার নিয়ম: মোট বর্গফুটকে ৭২০ দিয়ে ভাগ করতে হবে।
জমির পরিমাণ (কাঠা) = ৩,৩২১ ÷ ৭২০ = ৪.৬১ কাঠা (প্রায়)।

একর, শতক, বিঘা ও কাঠার হিসাব – সহজ গাণিতিক সূত্র ও রূপান্তর

জমির দলিল বা খতিয়ান হাতে নিলেই আমরা কিছু শব্দ দেখতে পাই—যেমন একর, হেক্টর, শতক, বিঘা, কড়া বা গণ্ডা। নতুনদের জন্য এই এককগুলো বোঝা অনেক সময় বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। এলাকাভেদে (যেমন পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়) এই এককগুলোর মানে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তবে সরকারিভাবে কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ড বা স্ট্যান্ডার্ড রয়েছে।

জমির প্রধান এককসমূহ

আমাদের উপমহাদেশে জমি মাপার জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত একক হলো 'শতাংশ' বা 'ডেসিমেল' (Decimal)। এর পরেই আছে কাঠা এবং বিঘা। চলুন বিস্তারিত জানা যাক।

১. শতাংশ বা শতক (Decimal):

২. কাঠা (Katha):

৩. বিঘা (Bigha):

৪. একর (Acre):

এক নজরে রূপান্তর:
1 শতক = ৪৩৫.৬ বর্গফুট
1 কাঠা = ১.৬৫ শতক
1 একর = ১০০ শতক

আঁকাবাঁকা বা ত্রিভুজাকার জমি মাপার সঠিক নিয়ম ও পদ্ধতি

বাস্তব জীবনে সব জমি একদম সোজা বা চারকোনা (আয়তাকার) হয় না। অনেক সময় পৈতৃক সম্পত্তি ভাগ করার পর জমির আকৃতি তিনকোনা (ত্রিভুজাকার) বা আঁকাবাঁকা হয়ে যায়। এসব ক্ষেত্রে সাধারণ "দৈর্ঘ্য গুণ প্রস্থ" সূত্র ব্যবহার করলে ভুল ফলাফল আসবে। আজকের এই পর্বে আমরা শিখব কীভাবে বিষমবাহু বা ত্রিভুজাকার জমি নির্ভুলভাবে মাপা যায়।

হেরন্সের সূত্র (Heron’s Formula)

ত্রিভুজাকার জমি মাপার জন্য বিশ্বখ্যাত গণিতবিদ হেরন্সের সূত্রটি ব্যবহার করা হয়। এটি একটু কঠিন মনে হতে পারে, কিন্তু ধাপে ধাপে করলে খুবই সহজ।

সূত্র: ক্ষেত্রফল = √[s(s-a)(s-b)(s-c)]
এখানে,
a, b, c = তিনটি বাহুর দৈর্ঘ্য
s = অর্ধ-পরিসীমা = (a + b + c) ÷ ২

একটি বাস্তব উদাহরণ:

ধরুন, আপনার একটি তিনকোনা জমি আছে যার তিনটি বাহুর মাপ যথাক্রমে: ৪০ ফুট, ৫০ ফুট এবং ৬০ ফুট।

গান্টার শিকল (Gunter's Chain) দিয়ে জমি মাপার নিয়মাবলী

আধুনিক যুগে আমরা লেজার মিটার বা ফিতা দিয়ে জমি মাপলেও, একটা সময় ছিল যখন 'শিকল' বা 'চেইন' ছিল জমি মাপার প্রধান হাতিয়ার। ১৬২০ সালে ব্রিটিশ গণিতবিদ এডমন্ড গান্টার এই শিকলটি আবিষ্কার করেন। এটি লোহা বা ইস্পাত দিয়ে তৈরি এবং এর দৈর্ঘ্য ৬৬ ফুট।

শিকলের হিসাব বুঝুন

গান্টার শিকলের কিছু জরুরি সূত্র

১০০০ বর্গ লিংক = 1 শতক
১,০০,০০০ (এক লক্ষ) বর্গ লিংক = 1 একর
১০ বর্গ চেইন = 1 একর

কিভাবে মাপবেন?

ধরুন, আপনি একটি আয়তাকার জমি মাপছেন। দৈর্ঘ্য ৩ শিকল (৩০০ লিংক) এবং প্রস্থ ২ শিকল (২০০ লিংক)।
ক্ষেত্রফল = ৩০০ × ২০০ = ৬০,০০০ বর্গ লিংক।
জমির পরিমাণ = ৬০,০০০ ÷ ১০০০ = ৬০ শতক।

CS, RS, SA ও LR খতিয়ান কী? এগুলোর মধ্যে পার্থক্য কী?

জমি কেনা বা বেচার সময় আমরা প্রায়ই CS, SA, RS বা হাল খতিয়ান শব্দগুলো শুনি। জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে হলে আপনাকে এই খতিয়ানগুলোর ইতিহাস এবং পার্থক্য বুঝতে হবে।

১. সিএস খতিয়ান (CS - Cadastral Survey)

এটি ব্রিটিশ আমলে তৈরি করা ভারতের প্রথম এবং পূর্ণাঙ্গ জরিপ। একে 'ভারতবর্ষের প্রথম রেকর্ড' বলা হয়। সময়কাল: ১৮৮৮ থেকে ১৯৪০ সাল।

২. এসএ খতিয়ান (SA - State Acquisition)

পাকিস্তান আমলে জমিদারি প্রথা বাতিলের সময় খুব দ্রুত এই জরিপ করা হয়েছিল। একে অনেকে '৬২-র রেকর্ড'ও বলেন।

৩. আরএস খতিয়ান (RS - Revisional Survey)

এসএ খতিয়ানের ভুলগুলো সংশোধন করার জন্য এই জরিপ করা হয়। এটি সরেজমিনে জমি মেপে তৈরি করা হয়েছে বলে এটি বেশ নির্ভুল।

৪. বিএস বা এলআর খতিয়ান (City Survey / Land Records)

এটি সর্বশেষ জরিপ। বর্তমানে জমি কেনা-বেচা এবং নামজারি করার জন্য এই খতিয়ানটিই মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।

পার্থক্য মনে রাখার সহজ উপায়:
CS = ব্রিটিশ আমল (সবচেয়ে পুরনো)
SA = পাকিস্তান আমল (মাঝামাঝি)
RS = সংশোধিত এবং নির্ভুল
LR/BS = বর্তমান বা হাল রেকর্ড

জমির নামজারি (Mutation) কী? কেন করবেন এবং না করলে কী ক্ষতি হবে?

জমি রেজিস্ট্রি করে কিনলেই আপনি সম্পূর্ণ মালিক হয়ে যান না। রেজিস্ট্রি অফিসের কাজ হলো দলিল করে দেওয়া, কিন্তু ভূমি অফিসের খাতায় আপনার নাম ওঠানোর প্রক্রিয়াটিই হলো 'নামজারি' বা 'মিউটেশন' (Mutation)।

নামজারি বা মিউটেশন কী?

সহজ ভাষায়, সরকারি ভূমি অফিসের রেকর্ড বা খতিয়ানে আগের মালিকের নাম কেটে বর্তমান মালিকের (আপনার) নাম অন্তর্ভুক্ত করাকে নামজারি বলে। এর মাধ্যমে আপনি সরকারের কাছে জমির বৈধ মালিক হিসেবে স্বীকৃতি পান।

নামজারি না করলে কী ক্ষতি হতে পারে?

পরামর্শ: "দলিল যার, জমি তার"—এই কথাটি পুরোপুরি সত্য নয়। বরং বলা উচিত "দলিল এবং খতিয়ান যার, জমি তার"। তাই জমি কেনার পরপরই দেরি না করে নামজারি করিয়ে নিন।

মুসলিম উত্তরাধিকার আইন: বাবার সম্পত্তিতে ছেলে ও মেয়ের অংশ কতটুকু?

মুসলিম উত্তরাধিকার আইন বা ফারায়েজ অনুযায়ী বাবার ইন্তেকালের পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি নির্দিষ্ট ওয়ারিশদের মধ্যে বন্টন করা বাধ্যতামূলক। পবিত্র কুরআনে এই বন্টন ব্যবস্থা খুব স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে। আমাদের সমাজে অনেকেই বোনদের বা মেয়েদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে চায়, যা ইসলাম এবং আইন উভয়ের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ছেলে ও মেয়ের অনুপাত (The 2:1 Rule)

বাবার সম্পত্তিতে ছেলে এবং মেয়ের অংশের মূল নীতি হলো—"এক ছেলের অংশ দুই মেয়ের অংশের সমান"। অর্থাৎ, ছেলের অংশ মেয়ের অংশের দ্বিগুণ হবে।

সহজ সূত্র: মোট সম্পত্তি থেকে স্ত্রী এবং বাবা-মায়ের অংশ (যদি বেঁচে থাকেন) দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে বন্টন হবে।
বন্টন অনুপাত: ছেলে : মেয়ে = 2 : 1

একটি উদাহরণ:

ধরুন, মৃত ব্যক্তি স্ত্রী, ১ ছেলে এবং ১ মেয়ে রেখে মারা গেলেন। স্ত্রীর অংশ (1/8) দেওয়ার পর বাকি সম্পত্তি ৩ ভাগ করা হবে।
1. ছেলে পাবে: ২ ভাগ।
2. মেয়ে পাবে: ১ ভাগ।

যদি শুধু মেয়ে থাকে?

যদি মৃত ব্যক্তির কোনো ছেলে না থাকে এবং শুধু ১ জন মেয়ে থাকে, তবে মেয়ে মোট সম্পত্তির অর্ধেক (1/2) পাবে। আর যদি একাধিক মেয়ে থাকে (ছেলে নেই), তবে তারা সবাই মিলে মোট সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ (2/3) পাবে।

হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী সম্পত্তির ভাগ-বন্টন পদ্ধতি

হিন্দু দায়ভাগা এবং মিতাক্ষরা আইন অনুযায়ী সম্পত্তির উত্তরাধিকার নির্ধারিত হয়। ভারতে ২০০৫ সালের হিন্দু উত্তরাধিকার সংশোধনী আইনের ফলে নারীদের অধিকার অনেক শক্তিশালী করা হয়েছে। এখন পৈতৃক সম্পত্তিতে ছেলে এবং মেয়ের অধিকার সমান।

প্রধান উত্তরাধিকারী কারা? (Class I Heirs)

হিন্দু আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি উইল (Will) না করে মারা গেলে তার সম্পত্তি প্রথমেই 'ক্লাস ১' ওয়ারিশদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হবে। প্রধান ওয়ারিশরা হলেন:

গুরুত্বপূর্ণ নোট: আগে নিয়ম ছিল যে মেয়েরা শুধুমাত্র বিয়ের আগ পর্যন্ত বাবার বাড়িতে অধিকার পাবে। কিন্তু বর্তমান সংশোধিত আইনে (ভারতে), মেয়ে বিবাহিত হলেও বাবার সম্পত্তিতে ছেলের মতোই সমান ভাগ পাবে।

বন্টন পদ্ধতি

ধরুন, একজন ব্যক্তি মারা গেলেন এবং তার মা, স্ত্রী, এক ছেলে এবং এক মেয়ে বেঁচে আছেন। তাহলে তার মোট সম্পত্তি ৪টি সমান ভাগে ভাগ হবে এবং প্রত্যেকে ১টি করে ভাগ পাবেন।

দানপত্র বা হেবা দলিল (Gift Deed) করার নিয়ম ও খরচ

জীবদ্দশায় কেউ যদি স্বেচ্ছায়, কোনো টাকার বিনিময় ছাড়া তার সম্পত্তি অন্য কাউকে দিয়ে দেন, তবে তাকে দান বা 'হেবা' বলা হয়। জমি বা ফ্ল্যাট কাউকে উপহার দিতে চাইলে মুখে মুখে বললে হবে না, অবশ্যই রেজিস্ট্রি করে দিতে হবে।

হেবা বা দান করার শর্তসমূহ

খরচ কত? (Registration Cost)

সাধারণত জমি বিক্রির বা সাফ-কবলা দলিলের খরচ অনেক বেশি হয়। কিন্তু রক্তের সম্পর্কের মধ্যে (যেমন: বাবা-মা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, দাদা-নাতি) দানপত্র বা হেবা দলিল করলে সরকারি খরচ নামমাত্র।

খরচের ধারণা: রক্তের সম্পর্কের মধ্যে হেবা দলিলের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন ফি মাত্র ১০০ টাকা (অঞ্চলভেদে স্ট্যাম্প ডিউটি ও অন্যান্য ফি যুক্ত হতে পারে, তবে তা বিক্রয় দলিলের চেয়ে অনেক কম)।

পরামর্শ: মৃত্যুর পর ওয়ারিশদের মধ্যে ঝামেলা এড়াতে চাইলে জীবদ্দশাতেই আপনার প্রিয়জনকে সম্পত্তি হেবা বা দান করে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

জমি নিয়ে বিরোধ বা মামলা থাকলে করণীয় কী? আইনি পরামর্শ

বাংলাদেশে এবং ভারতে জমিজমা নিয়ে বিরোধ একটি সাধারণ ঘটনা। সীমানা নিয়ে বিরোধ, জোরপূর্বক দখল, বা ভুয়া দলিল—এসব সমস্যায় পড়লে উত্তেজিত না হয়ে আইনি পথে আগানোই শ্রেয়।

১. স্থানীয়ভাবে আপোষ-মীমাংসা (Salish)

প্রথমেই আদালতে না গিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বসে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করুন। এতে সময় ও অর্থ দুইই বাঁচে।

২. ফৌজদারি ব্যবস্থা (Section 144/145)

যদি কেউ জোর করে আপনার জমি দখল করতে আসে বা দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশঙ্কা থাকে, তবে দ্রুত থানায় জিডি করুন এবং আদালতে ১৪৪ ধারা (শান্তি বজায় রাখা) বা ১৪৫ ধারার (দখল বজায় রাখা) মামলা করতে পারেন।

৩. দেওয়ানি মামলা (Civil Suit)

জমির মালিকানা বা স্বত্ব (Title) প্রমাণের জন্য আপনাকে দেওয়ানি আদালতে 'স্বত্ব প্রচারের মামলা' বা 'বন্টন মামলা' করতে হবে। এটি সময়সাপেক্ষ হলেও, মালিকানা নিশ্চিত করার জন্য এটিই চূড়ান্ত আইনি পথ।

জরুরি টিপস: জমি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে কখনোই নিজের আসল দলিল বা নথিপত্র অন্যের হাতে দেবেন না। শুধুমাত্র ফটোকপি ব্যবহার করবেন। এবং দ্রুত একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেবেন।